নড়াইল প্রতিনিধিঃ
নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের কামাল প্রতাপ এস জে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কামাল প্রতাপ এস জে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী সজল দুই মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। তবুও তিনি অদৃশ্য শক্তির বলে বেতন পাচ্ছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী মোঃ রফিকুল ইসলাম মল্লিক, মুন্সী ওহিদুজ্জামান,শেখ আফসার উদ্দিন, শেখ আকুব্বার হোসেন অভিযোগ করে বলেন,কামাল প্রতাপ, শালিখা, ঝিকরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি আমাদের এলাকার ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যালয়টির তৎকালীন সভাপতি
নড়াইল তাতী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম টুলুর সময় মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্কুলে কিছু কর্মচারী
নিয়োগ হয়, তখন এই চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী সজলের নিয়োগ দেন তিনি। সজল স্কুলের কাজ না করে সব সময় তাতী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম টুলুর কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকত,তাকে স্কুলে ডিউটি করতে দিতেন না তিনি, সব সময় তার ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন।
আজ দুই মাস স্কুলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী সজল অনুপস্থিত থাকায় সব যায়গায় ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।দেখার কেউ নেই।
স্কুলের উপবৃত্তির টাকা নিয়ে নানা ঝামেলা রয়েছে,কে বা কারা যোগসাজস করে কামাল প্রতাপ গ্রামের রফিজুর রহমানের ছেলে মৃত নিশানের উপবৃত্তির টাকাও তুলে নিচ্ছে।আবার অনেকে সঠিক মোবাইল নাম্বার দিয়েও উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছেনা।
সঠিক তদারকি না থাকায় প্রধান শিক্ষক সহ অনেকই সঠিক সময় স্কুলে আসেন না, ঠিক ভাবে ক্লাস নেন না, এই কারনে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যাও আশংকাজনক হারে
কমে গেছে। আমরা বর্তমান সভাপতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে স্কুলটির সার্বিক উন্নয়ন ও বর্তমান অব্যবস্থাপনা, দূর্ণীতি অনিয়ম বন্ধ করার জোর দাবী জানাচ্ছি।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষীতে গত ২৭ আগস্ট বুধবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষক কুমার বিশ্বজিৎ এর সাথে কথা বলে জানা যায়, সজল দুই মাস বিদ্যালয়ে আসছেন না,তিনি উপজেলা মাধ্যমিক অফিসারকে বিষয়টি মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন, সজলকে মৌখিক ভাবে শোকজ করেছেন।
কিন্তু সন্তোষ জনক কোন জবাব পাননি।
আর সজলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়টি সম্পূর্ণ বর্তমান সভাপতি( উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার) এর বলে জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী সজলের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তার ব্যবহৃত নাম্বার( ০১৯৭১৫০৮৫৭৪) টি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন
জানান, আমি যেহেতু বর্তমানে সভাপতির দায়ীত্বে আছি তাই আগামী সপ্তাহে স্কুলে মিটিং ডেকেছি,মিটিংয়ে সজলের কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে শোকজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।