সোহেল রানা,রাজশাহী,প্রতিনিধি:
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী দেশের আমের মৌসুম শেষ হলেও বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে এখন আমের সমারোহ, যা দেখলে মনে হবে নতুন করে আমের মৌসুম শুরু হচ্ছে। মূলত এটি সম্ভব হয়েছে কাটিমন নামের থাই জাতের একটি বারোমাসি আমের কারণে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত নতুন বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে সুস্বাদু এই আম। এই আমের বাণিজ্যিক চাষ বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। দাম এবং ফলন দুটোই ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এই আম চাষের আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষিবিদদের মতে, কাটিমন আম মূলত থাইল্যান্ড থেকে আনা একটি প্রজাতি, যাকে ‘সুইট কাটিমন’ও বলা হয়। দেশীয় আমের মৌসুমের বাইরে সারা বছর এর ফলন পাওয়া যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা থেকে নাচোল, নওগাঁর পোরশা, নিয়ামতপুর এবং তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা থেকে আমনুরা-কলমা সড়কের পাশে অসংখ্য কাটিমন জাতের আমের বাগান চোখে পড়ে। সম্প্রতি নাচোল উপজেলার লক্ষ্মীপুর মোড়ের পাশে ছোট ছোট গাছে ঝুলতে থাকা আম পথচারীদের নজর কেড়েছে।
বাগানের মালিক শাফিউল ইসলাম জানান, আট বছর আগে সাত বিঘা জমিতে তিনি কাটিমন আম চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার সাতটি বাগানে ১৫ থেকে ১৬ হাজার আম গাছ রয়েছে। সব গাছেই আম ধরেছে। বাজারে এখন পাইকারি প্রতি কেজি আম ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বছরে দুইবার ফলন পাওয়া যায় এই আম থেকে, যা বিক্রি করে তিনি বছরে কয়েক লাখ টাকা আয় করেন। রাজশাহীর তানোর উপজেলার একান্নপুর গ্রামের কৃষক তাবারক হোসেন জানান, তিনি খরচ উঠে না আসায় পুরনো গোপাল ভোগ, ল্যাংড়া ও ঘিরসা জাতের আম বাগান কেটে ২৫ বিঘা জমিতে প্রায় ২৫০০ কাটিমন গাছ লাগিয়েছেন। চলতি বছর ফলন ভালো হওয়ায় তিনি খরচ উঠে আসার ব্যাপারে আশাবাদী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের কৃষিবিদ ড. জহুরুল ইসলাম জানান, পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা পাওয়ার পর এই আম চাষ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টার থেকে উৎপাদিত চারা নার্সারির মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর কৃষকেরা এই আম চাষে বেশি ঝুঁকছেন। তিনি আরও জানান, কাটিমন আম চাষে বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। মৌসুমের বাইরে ফলন পেতে আমের মৌসুমের সময় মুকুল বা গুটি ভেঙে দিতে হয়, যাকে ‘প্রুনিং’ বলা হয়। এটি কাটিমন আম চাষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
Leave a Reply